shandipon

এসো, সন্দীপনে
সৈকত দে

আমরা যারা ভাষাকে ভালোবাসি, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় তাদের কাছে রোল মডেল। 'জীবিতদের শোক মৃতেরা গ্রহণ করে না, এইদিক দিয়ে আমরা খুব পরাধীন ভাবে বেঁচে আছি।'-আমরা যে পরাধীন বাঁচা বাঁচছি এইভাবে তার একটা নিখুঁত প্রতিবেদন শুরু করেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পতিষ্ঠান তাঁকে অবহেলা করেছে। তিনি নিজেই নিজের লেখার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছেন, বার করেছেন মিনি বুক। লিখেছেন 'সৌমেন পালিতের বৈবাহিক' এর মতন বিপ্লবী গ্রন্থ।
আরেক মূর্তি ভাঙ্গা লেখক দীপক মজুমদার সন্দীপন সম্পর্কে কি বলেছেন দেখুন, 'এক চরিত্রহীন ভাষা সন্দীপনের; কিন্তু সেই জন্যই স্টাইল এবং অলংকরণের প্রতি তার আঘাত এত কার্যকরী। যতদূর সম্ভব কথ্য ভাষার কাছাকাছি, অথচ সাংবাদিকতার ব্যভিচার নয়........'- ঠিক ই ধরেছেন দীপক, 'সাংবাদিকতার ব্যভিচার' নয় তার লেখা, তিনি ভাষাকে আক্রমন করেন, আমূলবিদ্ধ করেন পাঠককে অব্যর্থ শব্দে।
তার উপন্যাস গুলি সংখ্যায় অল্প, বাইশ কি তেইশ, আয়তনে ছোটো, ঘনতায় গভীর, মাস্ পিপলের কাছে তিনি সন্জীব চট্টোপাধ্যায়ের প্রিন্টিং মিসটেক, লোটাকম্বলের পিতা- বলেছিলেন এক সন্দীপন প্রেমী, ভাষার প্রতি কোনো ধরণের পূর্বসংস্কার যাদের নেই সন্দীপন তাদের আরাধ্য হতে পারেন। এক কমলকুমার ছাড়া ভাষাক্ষেত্রে তার মতন ভাংচুর ও সৌন্দর্য সৃষ্টি আর কেউ করেনি।
আজ ২৫শে অক্টোবর, তাঁকে তাঁর জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাই, তাঁর দৈহিক অস্তিত্ব এখন নেই কিন্তু তার লেখাগুলি আমাদের মনোজগতে আরো বহুকালের জন্য উপনিবেশ স্থাপন করে যাবে। এইদিক থেকে তিনি আরো দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।

২৫ অক্টোবর

copyright (C) 2007 fineartsbd.com